বাইরের এই সুন্দর পৃথিবীটা কি বিষাক্ত হতে পারে?! দেখতে পাচ্ছেন কিছু? কই আমি তো দেখতে পাচ্ছি না!!

চেরনোবিল দুর্ঘটনার পর ঐখানের প্রকৃতিও ঠিক এরকম ধোকা দিয়েছে সেখানকার মানুষকে। বর্তমানে চেরনোবিল শহরটি পরিত্যক্ত এবং প্রায় ৫০ মাইল এলাকা জুড়ে বলতে গেলে কেউ বাস করে না। তারও আগে প্লেগ, কলেরা, গুটিবসন্ত, যক্ষ্মা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ইবোলা সব মহামারীতেও প্রকৃতি এমনি ছিল। কিন্তু তার ভয়ঙ্কর পরিনতিতে লক্ষ কোটি মানুষের প্রাণ নিয়েছে বিনা রক্তপাতে। গ্রাম, শহর, জাতি, ধর্ম, বর্ণ কোন কিছু বাদ দেয়নি, নিঃশেষ করে দিয়েছে সবকিছু। কি অদ্ভুত না?! যাকে চোখে দেখা যাচ্ছে না, অথচ তার ধ্বংসলীলা আমরা যেন কিছুতেই সামাল দিতে পারছি না!

আমাদের বাইরে যেতে মানা। শুধু কি আমাদের কাছ থেকে বাইরে যাবার অধিকারটুকু কেড়ে নিয়েছে এই বিষাক্ত ভাইরাস? আমাদের জীবনকে কি কেড়ে নেয় নি? প্রতিদিনের জীবনকে কিভাবে জোড়াতালি দিতে উত্তর মেরু হতে দক্ষিন মেরু প্রতিনিয়ত মন ছুটে চলেছে, তা মন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। দৈনন্দিন খরচ কিভাবে এই পৃথিবী আমাদের মেটাতে শেখাবে এখন? কয় জনের ঘরে কয় মাসের সেভিংস আছে? মহামারীতে যতটা না মেরে ফেলে তার চাইতেও দ্বিগুণ মেরে ফেলে পরবর্তী সময়ে। আর মরে কর্মহীন মানুষ ও তাদের উপর নির্ভরশীল মানুষগুলো।

বাকীতে ভরে যাচ্ছে জীবনের হিসাবের খাতা। আবার ভয়ও হয়, এই বাকির ঋণ নিয়েই কি বিদায় নিতে হয় কি না? প্রতিদিন ভাবি এই লেখাটাই আবার শেষ লেখা হবে নাতো? তখন আমাকে কি তারা খুঁজবে যারা আমার লেখা পড়ত! হুম, কয়দিন হয়ত খুঁজবে, তারপর কেউ একজন ফেসবুককে আমার অনুপস্থিতি জানিয়ে রিপোর্ট করে দিবে, ফেসবুক খুব সুন্দর করে আমার প্রোফাইলে লিখে দিবে…

Remembering Rasheda Sultana
We hope people who love Rasheda will find comfort in visiting her profile to remember and celebrate her life.

যেন অনন্ত এক অনিশ্চয়তার মাঝে দিয়ে হেটে যাচ্ছি… নিজেকে আশা বা সান্ত্বনা দিতেও এখন আর ইচ্ছে করে না। তবুও অপেক্ষায় আছি আবার সব কিছু স্বাভাবিক হবে। আবার মানুষ অন্তত মানুষের থেকে দূরে সরে যাবে না। ভাল মন্দ মিলেই তো মানুষ; আর মানুষের জন্যই তো পৃথিবী।

“পৃথিবী বিষ মুক্ত হোক”… এই প্রার্থনাই করি ঈশ্বরের কাছে।